০৭:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভয়ের শেষে জয়ের স্বস্তির আলো ভারতের

  • Sangbad365 Admin
  • সময়ঃ ১২:০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৬০০১ Time View

ভয়াবহ ব্যাটিং ধস। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম তখন যেন নিঃস্তব্ধ—থমথমে, গুমোট এক পরিবেশ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে মেন ইন ব্লুদের ব্যাটিং বিপর্যয় রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।

শুরুর দিকের এই ব্যাটিং দুর্দশা ক্রিকেটার, দর্শকদের মনে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল। ঠিক সেই সময়েই হাল ধরেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাসে ভর করে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মাঝেও দলকে টেনে তোলেন তিনি। তার দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়েই ভারত ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পায় এবং শেষ পর্যন্ত স্বস্তির জয়ের পথ খুঁজে নেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের আমন্ত্রণে ব্যাটিংয়ে নেমে ভারত ৯ উইকেটে ১৬১ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে যুক্তরাষ্ট্র ৮ উইকেটে ১৩২ রানের বেশি করতে পারেনি। ২৯ রানের ব্যবধানে জয় পায় ভারত। এই জয়ের মাধ্যমে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অভিযান দারুণভাবে শুরু করলো বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

ভারতের টপ ও মিডল অর্ডারের সব ব্যাটসম্যান রয়েছেন দুর্দান্ত ফর্মে। মাঠে নামলেই রান। চার-ছক্কার ফুলঝুরি। বিশ্বকাপে হট ফেভারিট বলা হচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের।

কিন্তু ‘পুচকে’ যুক্তরাষ্ট্র তাদেরকে প্রথম ম্যাচেই কঠিন পরীক্ষায় ফেলবে তা কেউ কী ভেবেছিল? বিশ্বকাপের প্রথম দিনের তৃতীয় ম্যাচে দুই দল মাঠে নেমেছিল মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়েতে।

টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে ৭৭ রানে ৬ উইকেট নেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। ১১.৪ ওভারেই তাদের ৬ ব্যাটাসম্যান সাজঘরে। একটু ওলটপালট হলেই সবশেষ। স্কোরবোর্ডে মিলবে না কিছুই।

ক্রিজে তখন নিঃসঙ্গ শেপরা সূর্যকুমার যাদব। পরের ব্যাটসম্যান অক্ষর পাটেল কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেন। বাকিটা সময় সূর্যর আলোয় জ্বলে উঠল ভারত। ৪৯ বলে ৮৪ রান করে অপরাজিত থেকে স্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়েন ভারতের অধিনায়ক। নামের পাশে ১০ চার ও ৪ ছক্কা। স্ট্রাইক রেট ১৭১.৪২।

ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় ভারত। রানের খাতা খোলার আগেই অভিষেক শর্মা পেসার আলী খানের বলে আউট হন। গোল্ডেন ডাকে শুরু তার বিশ্বকাপ। সেই ধাক্কা সামলে ৩৭ রান যোগ করেন ইশান কিশান ও তিলাক বার্মা। কিন্তু দুজনই বিশের ঘরে পৌঁছে উইকেট বিলিয়ে আসেন। ইশান ১৬ বলে ২০ রান করেন ১ চার ও ২ ছক্কায়। তিলাক ১৬ বলে ২৫ রান করেন ৩ চার ও ১ ছক্কায়। ক্রিজে গিয়ে শিভাব দুবে মারেন গোল্ডেন ডাক। 

তিন বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে এক ওভারে আউট করেন পেসার শ্যাডলি ভ্যান শালকউইক। এই ধাক্কা সামলে না উঠতে উঠতেই রিংকু সিং ৬ ও হার্দিক পান্ডিয়া ৫ রান করে ড্রেসিংরুমের পথ ধরেন। সপ্তম উইকেটে সূর্যকুমারকে সঙ্গ দেন অক্ষল পাটেল। ২৪ বলে দুজন ৪১ রান জমা করেন। দ্রুত রান তোলার তাড়ায় অক্ষর ১১ বলে ১৪ রান করে আউট হলেও আরেক প্রান্তে সূর্যকুমার ছিলেন দুর্দান্ত। 

৩৬ বলে ফিফটিতে পৌঁছান তিনি। এরপর আগ্রাসন বাড়িয়ে দলের রান নিয়ে যান ভালো অবস্থানে। শেষ ওভারে ২টি করে চার ও ছক্কায় ২১ রান তোলেন তিনি। যা ছিল ইনিংসের সবচেয়ে খরুচে ওভার। তার শেষের এই ঝড়েই ওয়াংখেড়েতে স্বস্তি ফিরে আসে।

২৫ রানে ৪ উইকেট নিয়ে শ্যাডলি ভ্যান শালকউইক ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সেরা বোলার। তাদের সেরা বোলার সৌরভ নরেশ নেত্রভালকারের সময়টা ভালো কাটেনি। ৪ ওভারে ৬৫ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য। এছাড়া হারমীত সিং ২টি ও ১টি করে উইকেট নেন আলী খান ও মোহাম্মদ মহসিন।

যুক্তরাষ্ট্রের বড় দলের বিপক্ষে জয়ের অভিজ্ঞতা বলতে, পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে হারানো। গত বিশ্বকাপেই তারা সুপার ওভারে পাকিস্তানকে হারিয়েছে। কিন্তু ভারত বোলিংয়ে কোনো সুযোগই তাদের দেয়নি। তবুও লড়াই করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বড় দলের বিপক্ষে নিয়মিত না খেলার অনভিজ্ঞতা ফুটে উঠেছে। 

১৩ রানে ৩ টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানকে হারায় তারা। চতুর্থ উইকেটে মিলিন্দ কুমার ও সঞ্জয় কৃষ্নমূর্তি ৫৮ রানের জুটি গড়েন। মিলিন্দ ৩৪ ও সঞ্জয় ৩৭ রান করেন। এই জুটি ভাঙার পর কেবল শুভম রনজান ৩৭ রান করেন। বাকিরা কেউ আলো ছড়াতে পারেননি।

বল হাতে ভারতের হয়ে সিরাজ ২৯ রানে ৩ উইকেট নেন। ২টি করে উইকেট পেয়েছেন আর্শদীপ ও অক্ষর পাটেল। 

১০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের পরের ম্যাচ পাকিস্তানের বিপক্ষে। ভারত ১২ ফেব্রুয়ারি খেলবে নামিবিয়ার বিপক্ষে।

ট্যাগঃ

ভয়ের শেষে জয়ের স্বস্তির আলো ভারতের

সময়ঃ ১২:০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভয়াবহ ব্যাটিং ধস। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম তখন যেন নিঃস্তব্ধ—থমথমে, গুমোট এক পরিবেশ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে মেন ইন ব্লুদের ব্যাটিং বিপর্যয় রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।

শুরুর দিকের এই ব্যাটিং দুর্দশা ক্রিকেটার, দর্শকদের মনে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল। ঠিক সেই সময়েই হাল ধরেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাসে ভর করে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মাঝেও দলকে টেনে তোলেন তিনি। তার দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়েই ভারত ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পায় এবং শেষ পর্যন্ত স্বস্তির জয়ের পথ খুঁজে নেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের আমন্ত্রণে ব্যাটিংয়ে নেমে ভারত ৯ উইকেটে ১৬১ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে যুক্তরাষ্ট্র ৮ উইকেটে ১৩২ রানের বেশি করতে পারেনি। ২৯ রানের ব্যবধানে জয় পায় ভারত। এই জয়ের মাধ্যমে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অভিযান দারুণভাবে শুরু করলো বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

ভারতের টপ ও মিডল অর্ডারের সব ব্যাটসম্যান রয়েছেন দুর্দান্ত ফর্মে। মাঠে নামলেই রান। চার-ছক্কার ফুলঝুরি। বিশ্বকাপে হট ফেভারিট বলা হচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের।

কিন্তু ‘পুচকে’ যুক্তরাষ্ট্র তাদেরকে প্রথম ম্যাচেই কঠিন পরীক্ষায় ফেলবে তা কেউ কী ভেবেছিল? বিশ্বকাপের প্রথম দিনের তৃতীয় ম্যাচে দুই দল মাঠে নেমেছিল মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়েতে।

টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে ৭৭ রানে ৬ উইকেট নেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। ১১.৪ ওভারেই তাদের ৬ ব্যাটাসম্যান সাজঘরে। একটু ওলটপালট হলেই সবশেষ। স্কোরবোর্ডে মিলবে না কিছুই।

ক্রিজে তখন নিঃসঙ্গ শেপরা সূর্যকুমার যাদব। পরের ব্যাটসম্যান অক্ষর পাটেল কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেন। বাকিটা সময় সূর্যর আলোয় জ্বলে উঠল ভারত। ৪৯ বলে ৮৪ রান করে অপরাজিত থেকে স্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়েন ভারতের অধিনায়ক। নামের পাশে ১০ চার ও ৪ ছক্কা। স্ট্রাইক রেট ১৭১.৪২।

ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় ভারত। রানের খাতা খোলার আগেই অভিষেক শর্মা পেসার আলী খানের বলে আউট হন। গোল্ডেন ডাকে শুরু তার বিশ্বকাপ। সেই ধাক্কা সামলে ৩৭ রান যোগ করেন ইশান কিশান ও তিলাক বার্মা। কিন্তু দুজনই বিশের ঘরে পৌঁছে উইকেট বিলিয়ে আসেন। ইশান ১৬ বলে ২০ রান করেন ১ চার ও ২ ছক্কায়। তিলাক ১৬ বলে ২৫ রান করেন ৩ চার ও ১ ছক্কায়। ক্রিজে গিয়ে শিভাব দুবে মারেন গোল্ডেন ডাক। 

তিন বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে এক ওভারে আউট করেন পেসার শ্যাডলি ভ্যান শালকউইক। এই ধাক্কা সামলে না উঠতে উঠতেই রিংকু সিং ৬ ও হার্দিক পান্ডিয়া ৫ রান করে ড্রেসিংরুমের পথ ধরেন। সপ্তম উইকেটে সূর্যকুমারকে সঙ্গ দেন অক্ষল পাটেল। ২৪ বলে দুজন ৪১ রান জমা করেন। দ্রুত রান তোলার তাড়ায় অক্ষর ১১ বলে ১৪ রান করে আউট হলেও আরেক প্রান্তে সূর্যকুমার ছিলেন দুর্দান্ত। 

৩৬ বলে ফিফটিতে পৌঁছান তিনি। এরপর আগ্রাসন বাড়িয়ে দলের রান নিয়ে যান ভালো অবস্থানে। শেষ ওভারে ২টি করে চার ও ছক্কায় ২১ রান তোলেন তিনি। যা ছিল ইনিংসের সবচেয়ে খরুচে ওভার। তার শেষের এই ঝড়েই ওয়াংখেড়েতে স্বস্তি ফিরে আসে।

২৫ রানে ৪ উইকেট নিয়ে শ্যাডলি ভ্যান শালকউইক ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সেরা বোলার। তাদের সেরা বোলার সৌরভ নরেশ নেত্রভালকারের সময়টা ভালো কাটেনি। ৪ ওভারে ৬৫ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য। এছাড়া হারমীত সিং ২টি ও ১টি করে উইকেট নেন আলী খান ও মোহাম্মদ মহসিন।

যুক্তরাষ্ট্রের বড় দলের বিপক্ষে জয়ের অভিজ্ঞতা বলতে, পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে হারানো। গত বিশ্বকাপেই তারা সুপার ওভারে পাকিস্তানকে হারিয়েছে। কিন্তু ভারত বোলিংয়ে কোনো সুযোগই তাদের দেয়নি। তবুও লড়াই করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বড় দলের বিপক্ষে নিয়মিত না খেলার অনভিজ্ঞতা ফুটে উঠেছে। 

১৩ রানে ৩ টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানকে হারায় তারা। চতুর্থ উইকেটে মিলিন্দ কুমার ও সঞ্জয় কৃষ্নমূর্তি ৫৮ রানের জুটি গড়েন। মিলিন্দ ৩৪ ও সঞ্জয় ৩৭ রান করেন। এই জুটি ভাঙার পর কেবল শুভম রনজান ৩৭ রান করেন। বাকিরা কেউ আলো ছড়াতে পারেননি।

বল হাতে ভারতের হয়ে সিরাজ ২৯ রানে ৩ উইকেট নেন। ২টি করে উইকেট পেয়েছেন আর্শদীপ ও অক্ষর পাটেল। 

১০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের পরের ম্যাচ পাকিস্তানের বিপক্ষে। ভারত ১২ ফেব্রুয়ারি খেলবে নামিবিয়ার বিপক্ষে।