০৮:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাক্ষাৎকারে ইসি আনোয়ারুল: চমৎকার নির্বাচন উপহার দেব আমরা

  • Sangbad365 Admin
  • সময়ঃ ১২:০২:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৬০০১ Time View

আমি-ডামি, রাতের ভোটসহ নানা ছলনায় ভোটাধিকারবঞ্চিত নাগরিকদের জনপ্রতিনিধি বেছে নিতে না পারার ১৭ বছরের আক্ষেপের অবসান ঘটানোর সেই মাহেদ্রক্ষণে আর মাত্র তিন দিন পরেই প্রবেশ করছে বাংলাদেশ, যেখানে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার পীঠে রয়েছে নিরাপত্তা শঙ্কা এবং বিশ্রী গুজবের অশুভ ছানাপোনা।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও নিবন্ধন স্থগিত আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিনটি কতটা শৃঙ্খলায় রাখা যাবে, ভোটদান কতটা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে; অবিরতভাবে এসব প্রশ্নের জবাব দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন ও নিরাপত্তা বিধানে নিয়োজিত বাহিনী; এমন কি অন্তর্বর্তী সরকারও। তবে আশা বার্তার বিপরীতে শঙ্কার উচ্চারণও শোনা যাচ্ছে, চলছে আলোচনা ও বিশ্লেষণ।

এই পরিপ্রেক্ষিতে ১২ ফেব্রুয়ারি ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণে নির্বাচন কমিশনের সার্বিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম, প্রযুক্তিগত নজরদারি এবং ভোটারদের জন্য কমিশনের বার্তা তুলে ধরতে ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। সব শঙ্কা পাশে রেখে ‘ইতিহাসের সেরা নির্বাচন’ উপহার দেওয়ার দৃঢ়তা উচ্চারিত হয়েছে তার কণ্ঠে।

প্রশ্ন: ভোটের বাকি মাত্র তিন দিন। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ হবে কি না, তা নিয়ে জনমনে এখনো প্রশ্নের উদ্রেক হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ আছে। এই অবস্থায় নির্বাচন কমিশন কতটা আত্মবিশ্বাসী?
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার: নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, কোনো ধরনের আশঙ্কার কারণ নেই। নির্বাচন নিয়ে যত শঙ্কা ছিল, সেগুলো আমরা সবার সহযোগিতায় ইতোমধ্যে কাটিয়ে উঠেছি। ইনশাআল্লাহ, ১২ ফেব্রুয়ারি একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে পারব। আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, ১২ তারিখে আমরা একটি চমৎকার নির্বাচন উপহার দেব। বাংলাদেশের ইতিহাসে অতীতে যত নির্বাচন হয়েছে, সেগুলোর তুলনায় এবারের নির্বাচনি পরিবেশ ভালো।

প্রশ্ন: আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। ইতোমধ্যে মাঠে সেনাবাহিনী ও ম্যাজিস্ট্রেট নামানো হয়েছে। মোট কতজন দায়িত্বে থাকবেন?
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার: নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সব বাহিনী মিলিয়ে প্রায় ১১ থেকে ১২ লাখ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। সবার লক্ষ্য একটাই- বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা নির্বাচন উপহার দেওয়া। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে এবং নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে নির্বাচনটি সুসমন্বিতভাবে পরিচালিত হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সবাই নিজ নিজ কমান্ডের আওতায় দায়িত্ব পালন করবেন। আমরা মনে করি, আগের পরিস্থিতির তুলনায় আইনশৃঙ্খলা অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। অতীতের নির্বাচনের তুলনায় এবারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আমি বলব, উত্তম। সব বাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে।

প্রশ্ন: নির্বাচনের দিন মনিটরিং সেল ও মিডিয়া সেল কীভাবে কাজ করবে?
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার: প্রতিটি আসনে একাধিক মনিটরিং টিম থাকবে, যার মধ্যে রয়েছে ইলেকটোরাল, বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পর্যবেক্ষক কমিটি এবং আইনশৃঙ্খলা সেল। প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর তথ্য সংগ্রহ করে তা জেলা ও আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসসহ কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলে পাঠানো হবে। আমাদের অটোমেশন সিস্টেমের মাধ্যমে এসব তথ্য রিয়েল-টাইমেও পাওয়া যাবে।

প্রশ্ন: সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ও ভুয়া প্রচার-প্রচারণা এবং আচরণবিধি লঙ্ঘন ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার: আমাদের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং সেল ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও সোশ্যাল মিডিয়া সব জায়গা মনিটর করছে। কোন তথ্য সত্য, কোনটি ভুয়া; তা যাচাই করে প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

প্রশ্ন: ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত নজরদারির আর কোনো ব্যবস্থা থাকছে কী?
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার: যেসব কেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ রয়েছে, সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পাশাপাশি কর্মকর্তাদের জন্য বডি-ওর্ন ক্যামেরাও দেওয়া হবে। এতে স্বচ্ছতা আরো বাড়বে।

প্রশ্ন: একই দিনে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ায় ফলাফল ঘোষণায় দেরি হতে পারে বলে আভাস রয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, তিন দিনও লাগতে পারে। এ বিষয়ে কমিশনের প্রস্তুতি কী?
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার: দিন ধরে ধরে আমরা বিষয়টি হিসাব করছি না। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ হবে। ওই দিন রাত ১২টা পর্যন্ত ১২ তারিখই থাকবে, এরপর ১২টা ১ মিনিটে ১৩ তারিখ শুরু হবে। আমাদের আশা ও প্রচেষ্টা হচ্ছে ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই ফলাফল পাওয়া যাবে। এমন কী পুরো ১৩ তারিখও লাগার কথা নয়। কারণ ফলাফল সংগ্রহের জন্য একাধিক ডিভাইস ও আধুনিক সিস্টেম ব্যবহার করা হবে।

প্রশ্ন: রাত ১২টা পর্যন্ত বা তার পরেও কি গণনা চলতে পারে?
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার: এটা সুনির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন। কিছু দুর্গম ও পিছিয়ে পড়া এলাকায় ফলাফল আসতে সময় লাগতে পারে। কয়েকটি কেন্দ্রের বোর্ডের ফল দেরিতে এলে সামান্য বিলম্ব হতে পারে।
তবে এখন যোগাযোগ ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক উন্নত। সে হিসেবে দেরি হওয়ার বিষয়টি গুরুতর কিছু নয়। সঠিক সময়েই ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

প্রশ্ন: অবৈধ অস্ত্র ও নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে অনেকের উদ্বেগ রয়েছে। এ বিষয়ে কমিশনের অবস্থান কী?
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার: যৌথ বাহিনীর অভিযান চলছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। আরো উদ্ধার হবে। নির্বাচন নিরাপদ রাখতে কমিশন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

প্রশ্ন: সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা এবং স্বাধীনভাবে কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কমিশনের ভূমিকা কী?
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার: সংবাদমাধ্যম সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করবে- এটাই নির্বাচন কমিশনের অবস্থান। কোনো সাংবাদিককে বাধা দেওয়া হলে বা উদ্দেশ্যমূলকভাবে হয়রানি করা হলে, তা কঠোরভাবে দমন করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রশ্ন: নারী ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন অনেক নারী সংগঠনের নেত্রী। কমিশন কীভাবে বিষয়টি দেখছে?
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার: শুধু নারী নন, সব ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সে জন্যই এত বড় পরিসরে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। কোনো ধরনের হয়রানি বরদাশত করা হবে না।

প্রশ্ন: ভোটারদের জন্য আপনার বার্তা কী?
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার: নির্বাচন কমিশন সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। আমি সব ভোটারকে আহ্বান জানাব, নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসুন, আপনার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিন। আসুন, সবাই মিলে একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিই।

ট্যাগঃ

সাক্ষাৎকারে ইসি আনোয়ারুল: চমৎকার নির্বাচন উপহার দেব আমরা

সময়ঃ ১২:০২:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আমি-ডামি, রাতের ভোটসহ নানা ছলনায় ভোটাধিকারবঞ্চিত নাগরিকদের জনপ্রতিনিধি বেছে নিতে না পারার ১৭ বছরের আক্ষেপের অবসান ঘটানোর সেই মাহেদ্রক্ষণে আর মাত্র তিন দিন পরেই প্রবেশ করছে বাংলাদেশ, যেখানে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার পীঠে রয়েছে নিরাপত্তা শঙ্কা এবং বিশ্রী গুজবের অশুভ ছানাপোনা।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও নিবন্ধন স্থগিত আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিনটি কতটা শৃঙ্খলায় রাখা যাবে, ভোটদান কতটা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে; অবিরতভাবে এসব প্রশ্নের জবাব দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন ও নিরাপত্তা বিধানে নিয়োজিত বাহিনী; এমন কি অন্তর্বর্তী সরকারও। তবে আশা বার্তার বিপরীতে শঙ্কার উচ্চারণও শোনা যাচ্ছে, চলছে আলোচনা ও বিশ্লেষণ।

এই পরিপ্রেক্ষিতে ১২ ফেব্রুয়ারি ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণে নির্বাচন কমিশনের সার্বিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম, প্রযুক্তিগত নজরদারি এবং ভোটারদের জন্য কমিশনের বার্তা তুলে ধরতে ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। সব শঙ্কা পাশে রেখে ‘ইতিহাসের সেরা নির্বাচন’ উপহার দেওয়ার দৃঢ়তা উচ্চারিত হয়েছে তার কণ্ঠে।

প্রশ্ন: ভোটের বাকি মাত্র তিন দিন। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ হবে কি না, তা নিয়ে জনমনে এখনো প্রশ্নের উদ্রেক হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ আছে। এই অবস্থায় নির্বাচন কমিশন কতটা আত্মবিশ্বাসী?
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার: নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, কোনো ধরনের আশঙ্কার কারণ নেই। নির্বাচন নিয়ে যত শঙ্কা ছিল, সেগুলো আমরা সবার সহযোগিতায় ইতোমধ্যে কাটিয়ে উঠেছি। ইনশাআল্লাহ, ১২ ফেব্রুয়ারি একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে পারব। আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, ১২ তারিখে আমরা একটি চমৎকার নির্বাচন উপহার দেব। বাংলাদেশের ইতিহাসে অতীতে যত নির্বাচন হয়েছে, সেগুলোর তুলনায় এবারের নির্বাচনি পরিবেশ ভালো।

প্রশ্ন: আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। ইতোমধ্যে মাঠে সেনাবাহিনী ও ম্যাজিস্ট্রেট নামানো হয়েছে। মোট কতজন দায়িত্বে থাকবেন?
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার: নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সব বাহিনী মিলিয়ে প্রায় ১১ থেকে ১২ লাখ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। সবার লক্ষ্য একটাই- বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা নির্বাচন উপহার দেওয়া। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে এবং নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে নির্বাচনটি সুসমন্বিতভাবে পরিচালিত হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সবাই নিজ নিজ কমান্ডের আওতায় দায়িত্ব পালন করবেন। আমরা মনে করি, আগের পরিস্থিতির তুলনায় আইনশৃঙ্খলা অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। অতীতের নির্বাচনের তুলনায় এবারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আমি বলব, উত্তম। সব বাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে।

প্রশ্ন: নির্বাচনের দিন মনিটরিং সেল ও মিডিয়া সেল কীভাবে কাজ করবে?
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার: প্রতিটি আসনে একাধিক মনিটরিং টিম থাকবে, যার মধ্যে রয়েছে ইলেকটোরাল, বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পর্যবেক্ষক কমিটি এবং আইনশৃঙ্খলা সেল। প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর তথ্য সংগ্রহ করে তা জেলা ও আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসসহ কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলে পাঠানো হবে। আমাদের অটোমেশন সিস্টেমের মাধ্যমে এসব তথ্য রিয়েল-টাইমেও পাওয়া যাবে।

প্রশ্ন: সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ও ভুয়া প্রচার-প্রচারণা এবং আচরণবিধি লঙ্ঘন ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার: আমাদের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং সেল ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও সোশ্যাল মিডিয়া সব জায়গা মনিটর করছে। কোন তথ্য সত্য, কোনটি ভুয়া; তা যাচাই করে প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

প্রশ্ন: ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত নজরদারির আর কোনো ব্যবস্থা থাকছে কী?
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার: যেসব কেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ রয়েছে, সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পাশাপাশি কর্মকর্তাদের জন্য বডি-ওর্ন ক্যামেরাও দেওয়া হবে। এতে স্বচ্ছতা আরো বাড়বে।

প্রশ্ন: একই দিনে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ায় ফলাফল ঘোষণায় দেরি হতে পারে বলে আভাস রয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, তিন দিনও লাগতে পারে। এ বিষয়ে কমিশনের প্রস্তুতি কী?
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার: দিন ধরে ধরে আমরা বিষয়টি হিসাব করছি না। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ হবে। ওই দিন রাত ১২টা পর্যন্ত ১২ তারিখই থাকবে, এরপর ১২টা ১ মিনিটে ১৩ তারিখ শুরু হবে। আমাদের আশা ও প্রচেষ্টা হচ্ছে ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই ফলাফল পাওয়া যাবে। এমন কী পুরো ১৩ তারিখও লাগার কথা নয়। কারণ ফলাফল সংগ্রহের জন্য একাধিক ডিভাইস ও আধুনিক সিস্টেম ব্যবহার করা হবে।

প্রশ্ন: রাত ১২টা পর্যন্ত বা তার পরেও কি গণনা চলতে পারে?
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার: এটা সুনির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন। কিছু দুর্গম ও পিছিয়ে পড়া এলাকায় ফলাফল আসতে সময় লাগতে পারে। কয়েকটি কেন্দ্রের বোর্ডের ফল দেরিতে এলে সামান্য বিলম্ব হতে পারে।
তবে এখন যোগাযোগ ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক উন্নত। সে হিসেবে দেরি হওয়ার বিষয়টি গুরুতর কিছু নয়। সঠিক সময়েই ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

প্রশ্ন: অবৈধ অস্ত্র ও নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে অনেকের উদ্বেগ রয়েছে। এ বিষয়ে কমিশনের অবস্থান কী?
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার: যৌথ বাহিনীর অভিযান চলছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। আরো উদ্ধার হবে। নির্বাচন নিরাপদ রাখতে কমিশন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

প্রশ্ন: সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা এবং স্বাধীনভাবে কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কমিশনের ভূমিকা কী?
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার: সংবাদমাধ্যম সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করবে- এটাই নির্বাচন কমিশনের অবস্থান। কোনো সাংবাদিককে বাধা দেওয়া হলে বা উদ্দেশ্যমূলকভাবে হয়রানি করা হলে, তা কঠোরভাবে দমন করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রশ্ন: নারী ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন অনেক নারী সংগঠনের নেত্রী। কমিশন কীভাবে বিষয়টি দেখছে?
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার: শুধু নারী নন, সব ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সে জন্যই এত বড় পরিসরে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। কোনো ধরনের হয়রানি বরদাশত করা হবে না।

প্রশ্ন: ভোটারদের জন্য আপনার বার্তা কী?
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার: নির্বাচন কমিশন সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। আমি সব ভোটারকে আহ্বান জানাব, নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসুন, আপনার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিন। আসুন, সবাই মিলে একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিই।