ঈদ মানেই ঘরে ঘরে সেমাইয়ের সুবাস। সেই চিরচেনা উৎসবের আবহে এবারো জমে উঠেছে সেমাইয়ের বাজার। তবে আনন্দের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাড়তি খরচের চাপ। চাহিদা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে দামও। বিশেষ করে লাচ্ছা সেমাইয়ে।
বিক্রেতারা বলছেন, বছরের অন্যান্য সময়েও সেমাই বিক্রি হলেও ঈদকে ঘিরেই এর মূল বাজার তৈরি হয়। আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে সেমাই বিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। পরিবারে অতিথি আপ্যায়ন থেকে শুরু করে ঐতিহ্যবাহী রান্না সবকিছুর কেন্দ্রেই থাকছে সেমাই।
বাংলাদেশে বছরে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টন সেমাইয়ের চাহিদা রয়েছে, যার বাজার মূল্য ২০০ কোটি টাকার বেশি। দেশে প্রায় ৪০টির বেশি প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি প্যাকেটজাত সেমাই বাজারজাত করছে। এর বাইরে মৌসুমি উৎপাদকরাও খোলা সেমাই সরবরাহ করছে।
লাচ্ছায় বেশি ঝোঁক, ব্র্যান্ডে আস্থা
আগে খোলা সেমাইয়ের প্রাধান্য থাকলেও এখন ক্রেতারা ঝুঁকছেন প্যাকেটজাত ব্র্যান্ডের দিকে। বাজারে বনফুল, প্রাণ, কিষোয়ান, কুলসন, ওয়েল ফুড ও স্কয়ারসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সেমাই বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে সব ধরনের সেমাইয়ের মধ্যে লাচ্ছা সেমাইয়ের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবার সেমাইয়ের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। প্যাকেটজাত লাচ্ছা সেমাই (৫০০ গ্রাম): ৪৫০–১০০০ টাকা (গত বছর ৪০০–৮০০) ২০০ গ্রাম প্যাকেট: ৪৫–৫০ টাকা (প্রায় অপরিবর্তিত)।
খোলা লাচ্ছা সেমাই: ১৮০–৫০০ টাকা প্রতি কেজি, সাধারণ মানের বাংলা সেমাই: ৮০–৯০ টাকা প্রতি কেজি।
ব্যবসায়ীদের মতে, কাঁচামাল-বিশেষ করে গমের আটা, চিনি ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, পাশাপাশি উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বাড়ায় এই মূল্য বৃদ্ধি ঘটেছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) রাজধানীর কাপ্তান বাজার, রায়েরবাগ ও নয়াবাজার ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতাদের ভিড়। অনেকে আগেই ঈদের কেনাকাটা করছেন। দোকানিরা বলছেন, রোজার শেষ ১০ দিনেই সেমাই বিক্রি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে।
কাপ্তান বাজারের ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম বলেন, “দাম বাড়লেও ঈদের সময় সেমাই কেনা থেকে কেউ বিরত থাকেন না। বিশেষ করে ২০০ গ্রামের প্যাকেটগুলোর চাহিদা বেশি, কারণ দাম তুলনামূলক কম।”
কাপ্তান বাজারে ক্রেতা আবুল কাশেম বলেন, “দাম কিছুটা বেশি হলেও ঈদের আনন্দে সেমাই কিনতেই হচ্ছে। অতিথি আপ্যায়নে এটি এখন অপরিহার্য একটি উপাদান। অনেকেই একাধিক ধরনের সেমাই কিনছেন লাচ্ছা, চিকন ও ঘি-ভাজা।”
কাপ্তান বাজারে আরেকজন ক্রেতা কালিম হাসান বলেন, “সেমাই এখনো ঈদের অপরিহার্য অংশ। আর সেই ঐতিহ্য ধরে রেখেই জমে উঠেছে এবারের ঈদের বাজার।”
ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাড়তি চাহিদার সুযোগে কেউ অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়াচ্ছে কি না, তা তদারকি করা জরুরি।
Sangbad365 Admin 





