০২:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চিকিৎসার জন্য ১০ লাখ টাকা উঠাতে পারবেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ

  • Sangbad365 Admin
  • সময়ঃ ১২:০৪:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৬০০৪ Time View

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে একজন গ্রাহক তার হিসাব থেকে চিকিৎসার জন্য একসঙ্গে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা উঠাতে পারবে। তাছাড়া কোনো গ্রাহক দূরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসারত থাকলে তার হিসাব থেকে যেকোনো সময় যেকোনো পরিমাণ টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে ওই গ্রাহকের চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখাতে হবে। তবে এর বেশি অর্থ প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে। এ বিষয়ে ব্যাংকের প্রশাসকদের অবগত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিক সাংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

শাহরিয়ার সিদ্দিক বলেন, “কোনো আমাতকারী ১০ লাখ টাকা উঠাতে চাইতে ওই গ্রাহক সত্যিই অসুস্থ কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হবে। কেউ টাকা তুলতে না পারলে বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ জানাতে পারবেন।”

তিনি জানান, গ্রাহকরা ইতোমধ্যে যথেষ্ট ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন এবং আরো কিছুটা সময় ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান। সবাই ধাপে ধাপে টাকা পাবেন। সরকার যেভাবে আমানত সরবরাহ করছে, সেই অনুপাতে অর্থ ছাড় করা হচ্ছে।”

শাহরিয়ার সিদ্দিক বলেন, “শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে, যা গত ডিসেম্বর থেকে কার্যক্রম শুরু করেছে। আমানতকারীদের টাকা ফেরতের জন্য একটি বিশেষ স্কিম চালু করা হয়েছে। এই স্কিম অনুযায়ী একজন গ্রাহক প্রথম ধাপে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা তুলতে পারবেন। যাদের আমানত দুই লাখ টাকার বেশি, তারা প্রতি তিন মাস অন্তর সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা করে তুলতে পারবেন। পুরো অর্থ তুলতে সময় লাগবে প্রায় ২১ মাস। ডিপিএস ও এফডিআরের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।”

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগের বিষয়টি নতুন এবং চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।

এমডি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি ইতোমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত পেলেই বাংলাদেশ ব্যাংক দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

তিনি বলেন, “সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক যাতে মুনাফা করতে পারে। সেজন্য একই এলাকায় শাখাগুলো কমিয়ে আনা হবে। ব্যাংকগুলো ৫টি প্রধান কার্যালয়কে এক করা হবে। এছাড়া অন্যান্য কাজগুলো একসঙ্গে করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কাজ চলমান রয়েছে।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে গ্রাহকদের বিক্ষোভ
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক কয়েকশ গ্রাহক মঙ্গলবার সকাল থেকে বাংলাদেশ ভোক্তভোগী ব্যাংক আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে আমানত ফেরত না পেয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের মুনাফা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে এই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছেন আমানতকারীরা।

এক্সিম ব্যাংকের একজন গ্রাহক জানান, তিনি এসএমই খাতের একটি ছোট্ট ব্যবসা করেন। প্রতি মাসে অল্প অল্প করে জমিয়ে একটি ডিপিএস করেছিলেন। যা গত ডিসেম্বরেই মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু এখনো সেই টাকা উঠাতে পারেননি।

সোনারগাঁও থেকে আসা সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের আরেক আমানতকারী বলেন, “জমি বিক্রির টাকা ঘরে রাখিনি ডাকাতের ভয়ে, তাই ব্যাংকে রেখেছিলাম। এখন দেখি ব্যাংকেই বড় ডাকাত! তাহলে আমরা কোথায় যাব?”

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া আমানতকারীরা সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর আরোপিত ‘হেয়ার কাট’ প্রত্যাহার এবং ব্যাংকিং লেনদেন স্বাভাবিক করার দাবি জানান। 

আমানতকারীরা বলেন, “ব্যাংকগুলো ব্যবসা করে আমানতকারীদের টাকা দিয়ে। তারা কোথায় ব্যবসা করবে এটা জেনে বুঝে বিনিয়োগ করা দরকার। কিন্তু একটি মহান ব্যাংকের পরিচালক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশের ঋণের নামে অর্থ লুটপাট করেছে। এ দায় আমানতকারীরা কেন নেবে? ব্যাংকের কাজ লুটপাটের টাকা ফেরত আনা। আর আনতে না পারলে তাদের সম্পদ বিক্রি করে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে হবে।

ট্যাগঃ

চিকিৎসার জন্য ১০ লাখ টাকা উঠাতে পারবেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ

সময়ঃ ১২:০৪:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে একজন গ্রাহক তার হিসাব থেকে চিকিৎসার জন্য একসঙ্গে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা উঠাতে পারবে। তাছাড়া কোনো গ্রাহক দূরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসারত থাকলে তার হিসাব থেকে যেকোনো সময় যেকোনো পরিমাণ টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে ওই গ্রাহকের চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখাতে হবে। তবে এর বেশি অর্থ প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে। এ বিষয়ে ব্যাংকের প্রশাসকদের অবগত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিক সাংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

শাহরিয়ার সিদ্দিক বলেন, “কোনো আমাতকারী ১০ লাখ টাকা উঠাতে চাইতে ওই গ্রাহক সত্যিই অসুস্থ কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হবে। কেউ টাকা তুলতে না পারলে বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ জানাতে পারবেন।”

তিনি জানান, গ্রাহকরা ইতোমধ্যে যথেষ্ট ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন এবং আরো কিছুটা সময় ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান। সবাই ধাপে ধাপে টাকা পাবেন। সরকার যেভাবে আমানত সরবরাহ করছে, সেই অনুপাতে অর্থ ছাড় করা হচ্ছে।”

শাহরিয়ার সিদ্দিক বলেন, “শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে, যা গত ডিসেম্বর থেকে কার্যক্রম শুরু করেছে। আমানতকারীদের টাকা ফেরতের জন্য একটি বিশেষ স্কিম চালু করা হয়েছে। এই স্কিম অনুযায়ী একজন গ্রাহক প্রথম ধাপে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা তুলতে পারবেন। যাদের আমানত দুই লাখ টাকার বেশি, তারা প্রতি তিন মাস অন্তর সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা করে তুলতে পারবেন। পুরো অর্থ তুলতে সময় লাগবে প্রায় ২১ মাস। ডিপিএস ও এফডিআরের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।”

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগের বিষয়টি নতুন এবং চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।

এমডি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি ইতোমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত পেলেই বাংলাদেশ ব্যাংক দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

তিনি বলেন, “সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক যাতে মুনাফা করতে পারে। সেজন্য একই এলাকায় শাখাগুলো কমিয়ে আনা হবে। ব্যাংকগুলো ৫টি প্রধান কার্যালয়কে এক করা হবে। এছাড়া অন্যান্য কাজগুলো একসঙ্গে করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কাজ চলমান রয়েছে।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে গ্রাহকদের বিক্ষোভ
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক কয়েকশ গ্রাহক মঙ্গলবার সকাল থেকে বাংলাদেশ ভোক্তভোগী ব্যাংক আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে আমানত ফেরত না পেয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের মুনাফা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে এই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছেন আমানতকারীরা।

এক্সিম ব্যাংকের একজন গ্রাহক জানান, তিনি এসএমই খাতের একটি ছোট্ট ব্যবসা করেন। প্রতি মাসে অল্প অল্প করে জমিয়ে একটি ডিপিএস করেছিলেন। যা গত ডিসেম্বরেই মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু এখনো সেই টাকা উঠাতে পারেননি।

সোনারগাঁও থেকে আসা সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের আরেক আমানতকারী বলেন, “জমি বিক্রির টাকা ঘরে রাখিনি ডাকাতের ভয়ে, তাই ব্যাংকে রেখেছিলাম। এখন দেখি ব্যাংকেই বড় ডাকাত! তাহলে আমরা কোথায় যাব?”

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া আমানতকারীরা সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর আরোপিত ‘হেয়ার কাট’ প্রত্যাহার এবং ব্যাংকিং লেনদেন স্বাভাবিক করার দাবি জানান। 

আমানতকারীরা বলেন, “ব্যাংকগুলো ব্যবসা করে আমানতকারীদের টাকা দিয়ে। তারা কোথায় ব্যবসা করবে এটা জেনে বুঝে বিনিয়োগ করা দরকার। কিন্তু একটি মহান ব্যাংকের পরিচালক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশের ঋণের নামে অর্থ লুটপাট করেছে। এ দায় আমানতকারীরা কেন নেবে? ব্যাংকের কাজ লুটপাটের টাকা ফেরত আনা। আর আনতে না পারলে তাদের সম্পদ বিক্রি করে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে হবে।