০৬:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় হরমুজ প্রণালিসহ কয়েকটি বিষয়ে অগ্রগতি

  • Sangbad365 Admin
  • সময়ঃ ১২:০২:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৬০০৩ Time View

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা গভীর রাত পর্যন্ত চলবে। আলোচনা সম্ভবত রবিবার পর্যন্তও গড়াতে পারে বলে সিএনএন-কে একটি পাকিস্তানি সূত্র জানিয়েছে।

আলোচনায় পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির বৈঠকে উপস্থিত আছেন।

আল-জাজিরা অনলাইন জানিয়েছে, প্রথম দফার আলোচনা দুই ঘণ্টার কিছু কম সময় ধরে চলেছিল। এরপরে নৈশভোজের জন্য বিরতি ছিল।

উভয় পক্ষই চরম অবস্থান নিয়ে আলোচনা শুরু করেছিল। তবে পরবর্তীতে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, ইরানের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সম্পদ অবমুক্তকরণ, হরমুজ প্রণালি এবং আরো কয়েকটি বিষয়ে কিছু অগ্রগতি হয়েছে।

ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং রাষ্ট্রপতির জামাতা জ্যারেড কুশনার মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

হোয়াইট হাউসের দেওয়া একটি তালিকা অনুসারে, ভ্যান্সের দুজন শীর্ষ উপদেষ্টা-তার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অ্যান্ড্রু বেকার এবং এশীয় বিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা মাইকেল ভ্যান্স এই আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন।

রাষ্ট্র-সমর্থিত সংবাদমাধ্যম তাসনিমের তথ্যমতে, ইসলামাবাদে ইরানের প্রতিনিধিদলে আলোচক, বিশেষজ্ঞ, গণমাধ্যম প্রতিনিধি এবং নিরাপত্তাকর্মীসহ ৭১ জন সদস্য রয়েছেন।

আলোচনাটি দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে: ইরানের দেওয়া একটি ১০-দফা কাঠামো এবং যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া একটি ১৫-দফা পরিকল্পনা। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। ওয়াশিংটন এই মর্মে দৃঢ় নিশ্চয়তা চাইছে যে, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। এর পাশাপাশি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং আইএইএ-এর হস্তক্ষেপমূলক নজরদারির ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপের দাবিও রয়েছে।

অন্যদিকে, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণসহ শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কার্যক্রম পরিচালনার অধিকারের স্বীকৃতি চাইছে, যা তারা জাতীয় সার্বভৌমত্বের বিষয় বলে মনে করে।

অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাও আরেকটি কেন্দ্রীয় বিষয়। ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরোপিত সমস্ত নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে ও সম্পূর্ণভাবে তুলে নেওয়ার পাশাপাশি বিদেশে জব্দকৃত আর্থিক সম্পদ মুক্ত করার দাবি জানাচ্ছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন; তারা পারমাণবিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি পূরণে ইরানের যাচাইযোগ্য সম্মতির সাথে সরাসরি যুক্ত করে পর্যায়ক্রমে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পক্ষে।
 

ট্যাগঃ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় হরমুজ প্রণালিসহ কয়েকটি বিষয়ে অগ্রগতি

সময়ঃ ১২:০২:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা গভীর রাত পর্যন্ত চলবে। আলোচনা সম্ভবত রবিবার পর্যন্তও গড়াতে পারে বলে সিএনএন-কে একটি পাকিস্তানি সূত্র জানিয়েছে।

আলোচনায় পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির বৈঠকে উপস্থিত আছেন।

আল-জাজিরা অনলাইন জানিয়েছে, প্রথম দফার আলোচনা দুই ঘণ্টার কিছু কম সময় ধরে চলেছিল। এরপরে নৈশভোজের জন্য বিরতি ছিল।

উভয় পক্ষই চরম অবস্থান নিয়ে আলোচনা শুরু করেছিল। তবে পরবর্তীতে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, ইরানের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সম্পদ অবমুক্তকরণ, হরমুজ প্রণালি এবং আরো কয়েকটি বিষয়ে কিছু অগ্রগতি হয়েছে।

ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং রাষ্ট্রপতির জামাতা জ্যারেড কুশনার মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

হোয়াইট হাউসের দেওয়া একটি তালিকা অনুসারে, ভ্যান্সের দুজন শীর্ষ উপদেষ্টা-তার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অ্যান্ড্রু বেকার এবং এশীয় বিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা মাইকেল ভ্যান্স এই আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন।

রাষ্ট্র-সমর্থিত সংবাদমাধ্যম তাসনিমের তথ্যমতে, ইসলামাবাদে ইরানের প্রতিনিধিদলে আলোচক, বিশেষজ্ঞ, গণমাধ্যম প্রতিনিধি এবং নিরাপত্তাকর্মীসহ ৭১ জন সদস্য রয়েছেন।

আলোচনাটি দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে: ইরানের দেওয়া একটি ১০-দফা কাঠামো এবং যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া একটি ১৫-দফা পরিকল্পনা। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। ওয়াশিংটন এই মর্মে দৃঢ় নিশ্চয়তা চাইছে যে, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। এর পাশাপাশি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং আইএইএ-এর হস্তক্ষেপমূলক নজরদারির ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপের দাবিও রয়েছে।

অন্যদিকে, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণসহ শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কার্যক্রম পরিচালনার অধিকারের স্বীকৃতি চাইছে, যা তারা জাতীয় সার্বভৌমত্বের বিষয় বলে মনে করে।

অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাও আরেকটি কেন্দ্রীয় বিষয়। ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরোপিত সমস্ত নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে ও সম্পূর্ণভাবে তুলে নেওয়ার পাশাপাশি বিদেশে জব্দকৃত আর্থিক সম্পদ মুক্ত করার দাবি জানাচ্ছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন; তারা পারমাণবিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি পূরণে ইরানের যাচাইযোগ্য সম্মতির সাথে সরাসরি যুক্ত করে পর্যায়ক্রমে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পক্ষে।