আমি আর শারমিন হাঁটা থামিয়ে পাগলির কথা থেকে জেনেছিলাম, ওর সঙ্গী ওই লোকটা আরেকজনের সঙ্গে শুয়েছে। ছেঁড়াফাড়া কামিজ পরিহিত পাগলিটাকে দেখে মনে হচ্ছিল ওর গর্ভে বাচ্চা আছে। সাধ মিটিয়ে পাগলি লোকটাকে মারছিল, চিৎকার করছিল, সতর্ক করছিল। বলছিল, এই বাচ্চার জন্ম দেবে না, পেট ফুটো করে বাচ্চাটাকে টেনেহিঁচড়ে বের করে আনবে। আমি আঁতকে উঠে দেখতে চাইছিলাম, ওর অবিশ্বস্ত সঙ্গীর প্রতিক্রিয়া। দেখলাম, তার মধ্যে কোনো বিকার নেই। সে অপরিচ্ছন্ন দাঁত বের করে খ্যাক খ্যাক করে হাসছিল আর বলছিল, আজ রাতেই আবার শুবে। শুনে পাগলিটা আরও খেপে উঠল। নিজের ডান হাত কামড়াতে শুরু করল। আমি আর শারমিন একবার ওকে বোঝাতে গেলাম, কোনো একটা এনজিওতে নিয়ে ওর থাকার ব্যবস্থা করতে চাইলাম। কিন্তু পাগলিটা লোকটাকে ছেড়ে লাঠি হাতে আমাদের দিকে তেড়ে এল। তাড়া খেয়ে ছুটতে ছুটতে আমার মনে পড়ল আজ মঙ্গলবার, সেদিনও মঙ্গলবার ছিল।
বাড়ি ফিরেই তোমাকে দেখতে পাব জানি। শুধু জানার অসম্পূর্ণতা আমাকে যে ঘায়েল করতে পারে তা ভাবিনি। ভেবেছিলাম আমাকে দেখে তুমি ব্যস্ত হয়ে উঠবে। গলায় টাওয়েল ঝুলিয়ে চৌকাঠ আটকে দাঁড়িয়ে থাকবে। তড়িঘড়িতে ঘাড়, গালের দাগ মুছতে ভুলে যাবে। অসময়ে কেন শাওয়ার নিলে তার কৈফিয়ত দিতে দিতে হড়বড় করে বলবে, ‘সে কী এত তাড়াতাড়ি ফিরলে! তোমার না সন্ধ্যার পরে আসার কথা?’
কিন্তু তুমি সামনে এসে দাঁড়িয়েছ ধীর, স্থির। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে কিছুই ঘটেনি। কেউ আসেনি। আমিই বরং অতর্কিতে এসে তোমার মতো হার্ডকোর কফিখোরের মনোযোগ নষ্ট করে পড়ার মুহূর্ত থেকে টেনে তুলেছি।
তোমার শান্ত ভাব আমাকে অশান্ত করে, হতচকিত আমি খোলা দরজা দিয়ে হুড়মুড়িয়ে ঢুকতে ঢুকতে হোঁচট খাওয়া আটকে জানতে চাই, ‘সে কি চলে গেছে?’
হাওয়াভর্তি ঘরে অসহায় প্রশ্নটা উড়তে থাকে। তুমি ধরো না, স্পর্শ করো না। পুনরায় জানতে চাই, ‘মেয়েটা কি চলে গেছে?’ উত্তরের ভার না টেনে তুমি এবার টানটান হও, পাল্টা জানতে চাও, ‘কোন মেয়ে?’ তোমার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে আমি তাড়া খাওয়া হরিণের মতো শোবার ঘরে ঢুকে যাই, এদিকে খুঁজি, সেদিকে খুঁজি…ক্রমশ দৃষ্টির চাঞ্চল্য কমে আসে। ফ্লাওয়ার বোম্ব সুগন্ধি ছাড়া আর কারও দেখা পাই না।
Sangbad365 Admin 










