১০:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বোরোর ক্ষতি পুষিয়ে খাদ্যনিরাপত্তা রক্ষার পথ কী

  • Sangbad365 Admin
  • সময়ঃ ১২:০৮:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
  • ১৬০০৮ Time View

বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তার প্রধান ভিত্তি ধান, আর ধানের মধ্যে বোরো মৌসুম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের মোট চাল উৎপাদনের প্রায় ৫৪ শতাংশ আসে বোরো থেকে। এ বছর ৫০ লাখ হেক্টরের বেশি জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় ২ কোটি ২৬ লাখ টন। মৌসুমের শুরুতে অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত আবাদ, উন্নত জাতের ব্যবহার এবং ভালো গাছের বৃদ্ধি দেখে ভালো উৎপাদনের আশা তৈরি হয়েছিল।

কিন্তু শেষভাগে অতিবৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি, ঝড়, সেচ সংকট, ডিজেলের ঘাটতি এবং রোগ-পোকার আক্রমণ সেই সম্ভাবনাকে অনিশ্চিত করেছে। বিশেষ করে হাওরসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে বোরো ধানের বড় ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে হাওর ও নিম্নাঞ্চল মিলিয়ে প্রায় ১৪-১৫ লাখ টন ধান উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এটি শুধু কৃষকের ক্ষতি নয়, জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তার জন্যও বড় সতর্কবার্তা। তবে চূড়ান্ত ক্ষতির হিসাব করতে হলে সব ফসল কাটার পর নিরপেক্ষ মূল্যায়ন প্রয়োজন।

পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে ডিজেলের সংকট। বোরো সম্পূর্ণ সেচনির্ভর হওয়ায় ডিজেলের ঘাটতিতে অনেক এলাকায় সময়মতো সেচ দেওয়া যায়নি, যার প্রভাব পড়েছে দানা গঠনে। পরে ডিজেলের দাম ও সরবরাহ সংকট ধান কাটাকেও ব্যাহত করেছে। এতে মাঠে থাকা পাকা ধান বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও ঝড়ের ঝুঁকিতে পড়েছে।

একই সঙ্গে অনিয়মিত আবহাওয়া ও আর্দ্রতার কারণে ব্লাস্ট রোগ, ব্রাউন প্ল্যান্ট হপারসহ বিভিন্ন রোগ-পোকার আক্রমণ কৃষকের দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। এই বাস্তবতায় প্রশ্ন উঠছে—যদি বোরো উৎপাদনে ১৪-১৫ লাখ টনের ঘাটতি তৈরি হয়, তাহলে সেই ক্ষতি কীভাবে পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব? এর উত্তর খুঁজতে হলে এখন থেকেই চলমান আউশ, আগামী আমন এবং পরবর্তী বোরো মৌসুমকে সমন্বিতভাবে পরিকল্পনার আওতায় এনে উৎপাদন বাড়াতে হবে।

সরকারি হিসাব ও পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হাওর বাদে দেশের বাকি এলাকায় এ মৌসুমে প্রায় ৪৬ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ নাগাদ আনুমানিক ২২-২৩ লাখ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। অর্থাৎ এখনো প্রায় ২৩-২৪ লাখ হেক্টর জমির ধান মাঠে রয়েছে। তাই প্রথম কাজ হলো বাকি বোরো ধান দ্রুত ও নিরাপদে ঘরে তোলা। একটি দানাও যেন নষ্ট না হয়, সে জন্য স্থানীয় প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। শ্রমিক সংকট, বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় এলাকায় কম্বাইন হারভেস্টারসহ কৃষিযন্ত্র দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

ট্যাগঃ

বোরোর ক্ষতি পুষিয়ে খাদ্যনিরাপত্তা রক্ষার পথ কী

সময়ঃ ১২:০৮:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তার প্রধান ভিত্তি ধান, আর ধানের মধ্যে বোরো মৌসুম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের মোট চাল উৎপাদনের প্রায় ৫৪ শতাংশ আসে বোরো থেকে। এ বছর ৫০ লাখ হেক্টরের বেশি জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় ২ কোটি ২৬ লাখ টন। মৌসুমের শুরুতে অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত আবাদ, উন্নত জাতের ব্যবহার এবং ভালো গাছের বৃদ্ধি দেখে ভালো উৎপাদনের আশা তৈরি হয়েছিল।

কিন্তু শেষভাগে অতিবৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি, ঝড়, সেচ সংকট, ডিজেলের ঘাটতি এবং রোগ-পোকার আক্রমণ সেই সম্ভাবনাকে অনিশ্চিত করেছে। বিশেষ করে হাওরসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে বোরো ধানের বড় ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে হাওর ও নিম্নাঞ্চল মিলিয়ে প্রায় ১৪-১৫ লাখ টন ধান উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এটি শুধু কৃষকের ক্ষতি নয়, জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তার জন্যও বড় সতর্কবার্তা। তবে চূড়ান্ত ক্ষতির হিসাব করতে হলে সব ফসল কাটার পর নিরপেক্ষ মূল্যায়ন প্রয়োজন।

পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে ডিজেলের সংকট। বোরো সম্পূর্ণ সেচনির্ভর হওয়ায় ডিজেলের ঘাটতিতে অনেক এলাকায় সময়মতো সেচ দেওয়া যায়নি, যার প্রভাব পড়েছে দানা গঠনে। পরে ডিজেলের দাম ও সরবরাহ সংকট ধান কাটাকেও ব্যাহত করেছে। এতে মাঠে থাকা পাকা ধান বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও ঝড়ের ঝুঁকিতে পড়েছে।

একই সঙ্গে অনিয়মিত আবহাওয়া ও আর্দ্রতার কারণে ব্লাস্ট রোগ, ব্রাউন প্ল্যান্ট হপারসহ বিভিন্ন রোগ-পোকার আক্রমণ কৃষকের দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। এই বাস্তবতায় প্রশ্ন উঠছে—যদি বোরো উৎপাদনে ১৪-১৫ লাখ টনের ঘাটতি তৈরি হয়, তাহলে সেই ক্ষতি কীভাবে পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব? এর উত্তর খুঁজতে হলে এখন থেকেই চলমান আউশ, আগামী আমন এবং পরবর্তী বোরো মৌসুমকে সমন্বিতভাবে পরিকল্পনার আওতায় এনে উৎপাদন বাড়াতে হবে।

সরকারি হিসাব ও পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হাওর বাদে দেশের বাকি এলাকায় এ মৌসুমে প্রায় ৪৬ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ নাগাদ আনুমানিক ২২-২৩ লাখ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। অর্থাৎ এখনো প্রায় ২৩-২৪ লাখ হেক্টর জমির ধান মাঠে রয়েছে। তাই প্রথম কাজ হলো বাকি বোরো ধান দ্রুত ও নিরাপদে ঘরে তোলা। একটি দানাও যেন নষ্ট না হয়, সে জন্য স্থানীয় প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। শ্রমিক সংকট, বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় এলাকায় কম্বাইন হারভেস্টারসহ কৃষিযন্ত্র দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।