আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদত করার জন্য। আর এই ইবাদতের একটি বড় অংশ হলো তাঁর নির্ধারিত সীমানার মধ্যে থাকা। মানুষ যখন স্বার্থপর হয়ে ওঠে এবং কেবল নিজের বস্তুগত উন্নতির জন্য অন্যদের অধিকার হরণ করে, তখন সে আসলে আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরে যায়।
বিষাক্ত বর্জ্য যথাস্থানে না ফেলে নদীতে ফেলা বা ব্যক্তিগত লাভের জন্য অন্যের ক্ষতি করা—এসবই জুলুমের শামিল।
এমন একজন ব্যক্তি যদি আল্লাহর কাছে দু’হাত তুলে দোয়া করে, তবে সেই দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু? রাসুল (সা.) এ বিষয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র এবং তিনি পবিত্র বস্তু ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করেন না।”
এরপর তিনি একজন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন, যে দীর্ঘ সফর করে ক্লান্ত, যার মাথার চুল এলোমেলো এবং দেহ ধূলিমলিন। সে আকাশের দিকে হাত তুলে ‘হে প্রভু, হে প্রভু’ বলে ডাকছে, অথচ তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম, পোশাক হারাম এবং সে হারাম উপার্জনেই লালিত-পালিত হয়েছে। এমতাবস্থায় তার দোয়া কীভাবে কবুল হতে পারে? (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১০১৫)
পবিত্র কোরআনেও এর প্রতিফলন পাওয়া যায়। আল্লাহ বলেন, “হে রাসুলগণ, আপনারা পবিত্র বস্তু আহার করুন এবং সৎকাজ করুন। (সুরা মুমিনুন, আয়াত: ৫১)
বিশ্বাসীদের উদ্দেশ্যেও একই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, “হে মুমিনগণ, আমি তোমাদের যে জীবনোপকরণ দান করেছি, তা থেকে পবিত্র বস্তু আহার করো। (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৭২)
সুতরাং, দোয়া কবুল হওয়ার এবং আল্লাহর রহমত লাভের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো আমাদের জীবনযাত্রা ও উপার্জন পবিত্র হওয়া।
Sangbad365 Admin 










