০২:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শাবান মাসের ৪ ধরনের রোজার বিধান

  • Sangbad365 Admin
  • সময়ঃ ১২:০১:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৬০৬৬ Time View

শাবান মাসে নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে রোজা রাখাকে ওলামায়ে কেরাম হারাম বা নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করেছেন:

ক. রমজানকে স্বাগত জানানোর নিয়তে রোজা: রমজান মাসের প্রতি অতি-উৎসাহ দেখাতে গিয়ে বা রমজানের একদিন আগে থেকে রোজা রাখা নিষিদ্ধ।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমাদের কেউ যেন রমজানের একদিন বা দুই দিন আগে রোজা না রাখে; তবে ওই ব্যক্তির কথা ভিন্ন যার নিয়মিত কোনো রোজা রাখার অভ্যাস আছে (যেমন সোমবার বা বৃহস্পতিবার)।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯১৪)

শাইখ ইবনে উসাইমিন (রহ.)–এর মতে, এই নিষেধটি মূলত হারাম বা নিষিদ্ধ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, বিশেষ করে যখন কেউ সওয়াবের আশায় এই একদিনকে নির্দিষ্ট করে নেয়। (শারহু রিয়াদিস সলিহিন, ৩/৩৯৪, দারু ইবনি জাওযি, রিয়াদ, ২০০১)

খ. সন্দেহের দিনে রোজা: শাবান মাসের ৩০তম দিন, যেদিন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকার কারণে চাঁদ দেখা যায়নি অথচ মানুষ মনে করছে রমজান শুরু হতে পারে—এমন দিনে রোজা রাখা মাকরুহ।

আম্মার বিন ইয়াসির (রা.) বলেন, “যে ব্যক্তি সন্দেহের দিনে রোজা রাখল, সে মহানবীর অবাধ্য হলো।” (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৬৮৬)

হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) সন্দেহের দিনে রোজা রাখাকে হারাম বলেছেন কারণ এটি সুন্নাহর সরাসরি লঙ্ঘন। (ফাতহুল বারি, ৪/১২০, দারুল মারিফাহ, বৈরুত, ১৯৭০)

শাবান মাস আমাদের শেখায় কীভাবে বড় কোনো লক্ষ্যের জন্য আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে হয়। এই মাসে আমাদের প্রধান কাজ হওয়া উচিত:

  • ১. গত বছরের কাজা রোজাগুলো দ্রুত আদায় করা।

  • ২. বেশি বেশি নফল রোজা রাখা, তবে তা যেন রমজানের ঠিক ১-২ দিন আগে না হয়।

  • ৩. মন থেকে হিংসা ও শিরকের কালিমা মুছে ফেলা।

  • ৪. দলিলহীন কোনো উৎসব বা নামাজে লিপ্ত না হয়ে সহিহ সুন্নাহ মোতাবেক ইবাদত করা।

আল্লাহ আমাদের শাবান মাসের পবিত্রতা রক্ষা করার এবং সহিহ সুন্নাহ পালনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

ট্যাগঃ

অন্তর্বর্তী সরকারের সাফল্য কিসে, জানালেন প্রেস সচিব 

শাবান মাসের ৪ ধরনের রোজার বিধান

সময়ঃ ১২:০১:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬

শাবান মাসে নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে রোজা রাখাকে ওলামায়ে কেরাম হারাম বা নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করেছেন:

ক. রমজানকে স্বাগত জানানোর নিয়তে রোজা: রমজান মাসের প্রতি অতি-উৎসাহ দেখাতে গিয়ে বা রমজানের একদিন আগে থেকে রোজা রাখা নিষিদ্ধ।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমাদের কেউ যেন রমজানের একদিন বা দুই দিন আগে রোজা না রাখে; তবে ওই ব্যক্তির কথা ভিন্ন যার নিয়মিত কোনো রোজা রাখার অভ্যাস আছে (যেমন সোমবার বা বৃহস্পতিবার)।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯১৪)

শাইখ ইবনে উসাইমিন (রহ.)–এর মতে, এই নিষেধটি মূলত হারাম বা নিষিদ্ধ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, বিশেষ করে যখন কেউ সওয়াবের আশায় এই একদিনকে নির্দিষ্ট করে নেয়। (শারহু রিয়াদিস সলিহিন, ৩/৩৯৪, দারু ইবনি জাওযি, রিয়াদ, ২০০১)

খ. সন্দেহের দিনে রোজা: শাবান মাসের ৩০তম দিন, যেদিন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকার কারণে চাঁদ দেখা যায়নি অথচ মানুষ মনে করছে রমজান শুরু হতে পারে—এমন দিনে রোজা রাখা মাকরুহ।

আম্মার বিন ইয়াসির (রা.) বলেন, “যে ব্যক্তি সন্দেহের দিনে রোজা রাখল, সে মহানবীর অবাধ্য হলো।” (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৬৮৬)

হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) সন্দেহের দিনে রোজা রাখাকে হারাম বলেছেন কারণ এটি সুন্নাহর সরাসরি লঙ্ঘন। (ফাতহুল বারি, ৪/১২০, দারুল মারিফাহ, বৈরুত, ১৯৭০)

শাবান মাস আমাদের শেখায় কীভাবে বড় কোনো লক্ষ্যের জন্য আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে হয়। এই মাসে আমাদের প্রধান কাজ হওয়া উচিত:

  • ১. গত বছরের কাজা রোজাগুলো দ্রুত আদায় করা।

  • ২. বেশি বেশি নফল রোজা রাখা, তবে তা যেন রমজানের ঠিক ১-২ দিন আগে না হয়।

  • ৩. মন থেকে হিংসা ও শিরকের কালিমা মুছে ফেলা।

  • ৪. দলিলহীন কোনো উৎসব বা নামাজে লিপ্ত না হয়ে সহিহ সুন্নাহ মোতাবেক ইবাদত করা।

আল্লাহ আমাদের শাবান মাসের পবিত্রতা রক্ষা করার এবং সহিহ সুন্নাহ পালনের তাওফিক দান করুন। আমিন।