টাঙ্গাইল প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
প্রকাশিত: ১৭:৪৪, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ আপডেট: ১৭:৫৬, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
ইন্টার্ন চিকিৎসক রায়হান কবির ইমন|
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক রায়হান কবির ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে ইমনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টে গোলাম মাহবুব খাঁন। সকালে ইমনকে আদালতে পাঠানোর পর পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ার পর তাকে সদর থানায় নেওয়া হয়েছে।
টাঙ্গাইলের আদালত পরিদর্শক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘‘জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে বিচারক সেটা মঞ্জুর করেন।’’
নারী চিকিৎসকদের যৌন হয়রানির অভিযোগে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস বাদী হয়ে ইমনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরো তিন জনের নামে মামলা দায়ের করেন। ইমন ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার লক্ষীখোলার হাসান আলীর ছেলে।
ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানান, রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডের ৯০৭ নম্বর ওয়াশ রুমে এক নারী চিকিৎসক স্পাই কলম ক্যামেরা দেখতে পান। তিনি ওই ক্যামেরা নিয়ে বের হলে ইমন সেটি নিতে ধস্তাধস্তি করেন। ওই নারী চিকিৎসককে একটি কক্ষে আটকে রাখার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে কলম ক্যামেরাটি ভেঙে ফেলেন।
রাতেই ওই নারী চিকিৎসক যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে হাসপাতালের পরিচালক বরাবর লিখিত আবেদন করেন। সোমবার সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবু হানিফকে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যদের তদন্ত কমিটি গঠন করে হাসপাতালের পরিচালক। সোমবার দুপুরে হাসপাতালে কক্ষে বিষয়টি জানার চেষ্টা করা হলে ইমনসহ পরিচালককে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখে অন্যান্য চিকিৎসকরা। পুলিশের কাছে সোপর্দের আগে ইমনকে পিটুনিও দেওয়া হয়।
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, ইমনকে ইন্টার্ন চিকিৎসক থেকে প্রাথমিকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়াও তার স্ত্রী ডা. নুরানী জান্নাত ঐশী স্বামী ইমনকে সমর্থন দেওয়ায় তাকেও ইন্টার্ন চিকিৎসক থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিন কর্ম দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা রয়েছে।
ইমনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন এই পরিচালক।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কয়েকজন নারী ইন্টার্ন চিকিৎসক জানান, ইমন দীর্ঘ দিন ধরে নারীদের সঙ্গে আপত্তিকর দৃষ্টিতে তাকাতেন। আবার অনেক নারী সহকর্মীদের ‘ব্যাটটাচ’ করার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। তাকে মৌখিকভাবে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও সুরাহা হয়নি। ইমনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
ঢাকা/কাওছার/বকুল
Sangbad365 Admin 












