তাহাদের বিশ্বাস ছিল, অপরাধীকে বিচারালয়ের কাঠগড়ায় তুলিবার চেয়ে পূর্বেই কিছু ‘চিকিৎসা’ প্রদান করিলে সমাজ অধিকতর দ্রুত অপরাধমুক্ত হইবে। এই উদ্দেশ্যে ডিমকে ব্যবহার করিয়া যে পদ্ধতি প্রবর্তিত হইল, তাহার নামকরণ করা হইয়াছিল ‘ডিম থেরাপি’।
কিন্তু ইতিহাস সরলরৈখিক নহে। ইতিহাস ঘোরে, পাক খায়, এবং প্রায়ই উপহাস করিয়া পুরনো অধ্যায় ফিরাইয়া আনে নতুন রূপে। মূল্যস্থিতি নামক এক রহস্যময় ও সর্বগ্রাসী দৈত্য যখন বাজারে আবির্ভূত হইল, তখন ডিমের ভাগ্য আবারও পরিবর্তিত হইল। দাম বাড়িল, সরবরাহ সংকুচিত হইল, এবং সাধারণ মানুষের চোখে ডিম পুনরায় হইয়া উঠিল আকাঙ্ক্ষিত ও দুর্লভ।
যে ডিম একদিন ডালভাতের পাশে নির্বিকার শুয়ে থাকিত, সেই ডিমই কাচের আলমারিতে রাখা অলংকারের মর্যাদা পাইতে শুরু করিল। সেই ডিমই পরিণত হইল হিসাবনিকাশ ও দীর্ঘশ্বাসের উৎসে। ক্রমেই সেই ডিম হইয়া উঠিল রাজনৈতিক অস্ত্র, নির্বাচনী আতঙ্ক এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ভাবনার কেন্দ্রবিন্দু।
এই সময়েই ডিম প্রবেশ করিল রাজনীতির মাঠে। নির্বাচন যত ঘনাইয়া আসিল, ততই ডিমের গুরুত্ব কেবল খাদ্যতালিকায় নহে, রাজনৈতিক অভিধানেও বাড়িতে লাগিল। অবশেষে এমন এক ঘটনা ঘটিল, যাহা ইতিহাসে ‘ডিম-কাণ্ড’ নামে লিপিবদ্ধ হইবার যোগ্য। কে জানে, ভবিষ্যতের কোনো ইতিহাসবিদ হয়তো এই ডিম-কাণ্ড এইভাবে বর্ণনা করিতে পারেন যে—
নির্বাচনী প্রচারণাকালে এক তরুণ প্রার্থীর উপর ডিম নিক্ষেপের অভিযোগ উঠিল। অভিযোগকারীদের ভাষ্যমতে, ডিমটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে তাহার অভিঘাতে তেরোজন প্রচারসঙ্গী গুরুতরভাবে আহত হইয়াছেন।
Sangbad365 Admin 











