২০২৪ সালের জুনে ডালাসে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হারের যন্ত্রণা ভুলতে পারেনি পাকিস্তান। সেই স্মৃতিরই মধুর প্রতিশোধ নিল তারা দুই বছর পর কলম্বোতে।
মঙ্গলবার এসএসসি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে যুক্তরাষ্ট্রকে ৩২ রানে হারিয়ে দাপুটে জয় তুলে নেয় বাবর আজম–শাহীন শাহ আফ্রিদিরা। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান ৯ উইকেটে সংগ্রহ করে ১৯০ রান। জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ৮ উইকেটে ১৫৮ রানের বেশি করতে পারেনি।
এই ম্যাচটি ছিল এসএসসি গ্রাউন্ডের জন্যও ঐতিহাসিক। ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত মাঠটিতে সদ্য বসানো ফ্লাডলাইটের আলোয় এটিই ছিল প্রথম ম্যাচ, আর সেই প্রথম রাতেই স্মরণীয় জয় উপহার দিল ২০০৯ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরা।
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে আগের ম্যাচে কষ্টার্জিত জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে এসে ছন্দ পেল পাকিস্তান। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে এই জয়েই বিশ্বকাপে নিজেদের শক্ত বার্তাটা স্পষ্ট করে দিল তারা।
পাকিস্তানের জয়ের নায়ক ওপেনার শাহিবাজাদা ফারহান। আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান ৪১ বলে ৬ চার ও ৫ ছক্কায় ৭৩ রান করেন। তার ঝড়ো ব্যাটিংয়েই পাকিস্তান বড় সংগ্রহ পায়। সুরটা ইনিংসের শুরুতে তিনিই বেঁধে দিয়েছিলেন। পাওয়ার প্লে’ শেষে পাকিস্তানের রান ২ উইকেটে ৫৬। শেষ ওভারে শ্যাডলি ক্লড ভ্যান শালকউইক জোড়া উইকেট নেন। সায়েম আইয়ুবকে (১৯) আউট করার পর সালমান আগাকে (১) টিককে দেননি।
তৃতীয় উইকেটে হাল ধরেন শাহিবজাদা ও বাবর। ৫৩ বলে ৮১ রানের জুটি গড়েন তারা। নিয়মিত বাউন্ডারির পাশাপাশি সিঙ্গেল-ডাবলসে অসাধারণ ছিল তাদের জুটি। ২৮ বলে টুর্নামেন্টের প্রথম ফিফটি তুলে নেন তিনি। বাবর এগিয়ে যাচ্ছিলেন সেই পথে। কিন্তু ৪৬ রানে কাটা পড়ে তার ইনিংস। ৩২ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় সাজান ইনিংসটি।
পাকিস্তানের ইনিংসের শেষটা রাঙান শাদাব খান। তার ১২ বলে ৩০ রানের বিস্ফোরক ইনিংসে পাকিস্তান দুইশর কাছাকাছি স্কোর পায়। শুরুর পর শেষ দিকে আরো ২ উইকেট নেন শ্যাডলি ক্লড ভ্যান শালকউইক। ২৫ রানে তার শিকার ৪ উইকেট। আগের ম্যাচেও ভারতের বিপক্ষে ২৫ রানে ৪ উইকেট পেয়েছিলেন ডানহাতি পেসার।
যুক্তরাষ্ট্রের বড় রানের অভ্যাস থাকলেও পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের উত্তর আজ তাদের কাছে ছিল না। বল হাতে দারুণ ছিলেন পাকিস্তানের বোলাররা। স্পিন ও পেসের সম্মিলিত আক্রমণে যুক্তরাষ্ট্রকে উড়তে দেয়নি। স্পিনার উসমান তারিক ২৭ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ছিলেন দলের সেরা। ২ উইকেট পেয়েছেন আরেক স্পিনার শাদাব খান। ১টি করে উইকেট নেন আফ্রিদি, আবরার ও নওয়াজ।
যুক্তরাষ্ট্রের তিন ব্যাটসম্যান লড়াই করেছেন। মিডল অর্ডারে নামা শুভাম রনজানে পেয়েছেন ফিফটির স্বাদ। ৩০ বলে ৫১ রান করেন ৩টি করে চার ও ছক্কায়। ওপেনার শায়ান জাহাঙ্গীরের ব্যাট থেকে আসে ৪৯ রান। ৩৪ বলে ৫ চার ও ২টি ছক্কায় ইনিংসটি মেরামত করেন তিনি। এছাড়া ২৯ রান করেন মিলিন্দ কুমার। বাকিরা তেমন কেউ ভালো করতে পারেনি।
টানা দুই জয়ে পাকিস্তান বেশ ভালোভাবে টুর্নামেন্ট শুরু করতে পারল। ১৫ ফেব্রুয়ারি তাদের পরবর্তী ম্যাচ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে।
Sangbad365 Admin 









