০৫:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রোবট কুকুরের ঘটনা ভারতকে যে শিক্ষা দিয়ে গেল

  • Sangbad365 Admin
  • সময়ঃ ১২:০০:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৬০০৩ Time View

এআই এমন ক্ষেত্র নয়, যেখানে কথার জোরে ভিতের অভাব ঢেকে রাখা যায়। ফ্রন্টিয়ার উদ্ভাবন এখনো সীমিত কয়েকটি পশ্চিমা ও চীনা গবেষণাগারে কেন্দ্রীভূত। কারণ, তারা ভালো সম্মেলন করে বলে নয়, বরং তারা জমা করেছে অপরিহার্য সম্পদ—বৃহৎ কম্পিউট ক্ষমতা, বিশ্বমানের গবেষণা পরিবেশ, সেমিকন্ডাক্টর দক্ষতা, নিজস্ব আর্কিটেকচার, দীর্ঘমেয়াদি পুঁজি এবং বিশ্বাসযোগ্যতার কঠোর সংস্কৃতি। ব্র্যান্ডিং দিয়ে এ সঞ্চয়কে প্রতিস্থাপন করা যায় না।

রোবোডগ নিয়ে সর্বশেষ যা ঘটে গেল, আগামী দিনে তা নিয়ে নানা ব্যাখ্যা উঠবে। কেউ বলবে তুচ্ছ ভুল–বোঝাবুঝি। কেউ রাজনৈতিক আখ্যান বানাবে। কেউ বলবে, তারা জানতই না।

কিন্তু যে প্রশ্নটা থেকেই যাবে, সেটি হলো যে দেশটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ভবিষ্যতের শক্তি বলে মানে, তার ইকোসিস্টেমে এমন সহজে দক্ষতার ভান মঞ্চস্থ হওয়া কি স্বাভাবিক কোনো ঘটনা?

বিশ্ববিদ্যালয় যদি কঠোর গবেষণার ইঞ্জিন না হয়ে প্রদর্শনীর থিয়েটার হয়ে ওঠে, তবে ডেমো-দক্ষ স্নাতক পাওয়া যাবে, কিন্তু যুগান্তকারী উদ্ভাবক পাওয়া যাবে না। করপোরেট ভারত যদি এআইকে জাতীয় সক্ষমতার ভিত্তি হিসেবে না নিয়ে ব্র্যান্ডিংয়ের আস্তরণ হিসেবে নেয়, তবে আমরা আরেক জায়গায় বানানো মডেল ব্যবহার করব, অন্যের অবকাঠামোয় তা চালাব, আর অন্যের লেখা মানদণ্ডে চলব। নীতিনির্ধারকেরা যদি দৃশ্যমানতাকেই প্রস্তুতি ভেবে নেন, তবে ভারত হয়ে উঠবে এক বিশাল বাজার ও পরীক্ষাগার। সেখানে ভারত ফ্রন্টিয়ার নির্মাতা হবে না, বরং দেশটি হবে প্রযুক্তি-শক্তিধরদের খেলার মাঠ।

ট্যাগঃ

রোবট কুকুরের ঘটনা ভারতকে যে শিক্ষা দিয়ে গেল

সময়ঃ ১২:০০:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এআই এমন ক্ষেত্র নয়, যেখানে কথার জোরে ভিতের অভাব ঢেকে রাখা যায়। ফ্রন্টিয়ার উদ্ভাবন এখনো সীমিত কয়েকটি পশ্চিমা ও চীনা গবেষণাগারে কেন্দ্রীভূত। কারণ, তারা ভালো সম্মেলন করে বলে নয়, বরং তারা জমা করেছে অপরিহার্য সম্পদ—বৃহৎ কম্পিউট ক্ষমতা, বিশ্বমানের গবেষণা পরিবেশ, সেমিকন্ডাক্টর দক্ষতা, নিজস্ব আর্কিটেকচার, দীর্ঘমেয়াদি পুঁজি এবং বিশ্বাসযোগ্যতার কঠোর সংস্কৃতি। ব্র্যান্ডিং দিয়ে এ সঞ্চয়কে প্রতিস্থাপন করা যায় না।

রোবোডগ নিয়ে সর্বশেষ যা ঘটে গেল, আগামী দিনে তা নিয়ে নানা ব্যাখ্যা উঠবে। কেউ বলবে তুচ্ছ ভুল–বোঝাবুঝি। কেউ রাজনৈতিক আখ্যান বানাবে। কেউ বলবে, তারা জানতই না।

কিন্তু যে প্রশ্নটা থেকেই যাবে, সেটি হলো যে দেশটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ভবিষ্যতের শক্তি বলে মানে, তার ইকোসিস্টেমে এমন সহজে দক্ষতার ভান মঞ্চস্থ হওয়া কি স্বাভাবিক কোনো ঘটনা?

বিশ্ববিদ্যালয় যদি কঠোর গবেষণার ইঞ্জিন না হয়ে প্রদর্শনীর থিয়েটার হয়ে ওঠে, তবে ডেমো-দক্ষ স্নাতক পাওয়া যাবে, কিন্তু যুগান্তকারী উদ্ভাবক পাওয়া যাবে না। করপোরেট ভারত যদি এআইকে জাতীয় সক্ষমতার ভিত্তি হিসেবে না নিয়ে ব্র্যান্ডিংয়ের আস্তরণ হিসেবে নেয়, তবে আমরা আরেক জায়গায় বানানো মডেল ব্যবহার করব, অন্যের অবকাঠামোয় তা চালাব, আর অন্যের লেখা মানদণ্ডে চলব। নীতিনির্ধারকেরা যদি দৃশ্যমানতাকেই প্রস্তুতি ভেবে নেন, তবে ভারত হয়ে উঠবে এক বিশাল বাজার ও পরীক্ষাগার। সেখানে ভারত ফ্রন্টিয়ার নির্মাতা হবে না, বরং দেশটি হবে প্রযুক্তি-শক্তিধরদের খেলার মাঠ।