অষ্টমত, অর্থনীতির বাইরে সামাজিক নীতির ক্ষেত্রেও খালেদা জিয়ার শাসনামল গুরুত্বপূর্ণ কিছু উদ্যোগের জন্য স্মরণীয়। তাঁর সময়ে নারীশিক্ষা বিস্তারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ১৯৯৪ সালে মাধ্যমিক স্তরে মেয়েদের শিক্ষায় উপবৃত্তি ও শিক্ষা অব্যাহত রাখার নীতির ফলে বিদ্যালয়ে মেয়েদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে।
দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে গ্রামীণ কর্মসংস্থান, খাদ্যনিরাপত্তা ও লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা কর্মসূচির পরিসর সম্প্রসারিত হয়। একই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা ধীরে ধীরে বাড়িয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য রাষ্ট্রীয় সহায়তা জোরদার করার চেষ্টা করা হয়। এসব উদ্যোগ সামাজিক অগ্রগতির ভিত্তি শক্ত করতে ভূমিকা রাখে।
এ রকম অনেক ইতিবাচক অর্থনৈতিক ও সামাজিক নীতিমালা এবং সংস্কার খালেদা জিয়ার অর্থনৈতিক উত্তরাধিকার। তাঁর শাসনামলে গৃহীত নীতিগুলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্ত করেছে। যদিও এসব উদ্যোগ কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও বাস্তবায়নগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল, তবু এগুলো বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে রয়েছে।
আজকের বাংলাদেশে শাসনব্যবস্থার দুর্বলতা এখনো কাটেনি। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলার অভাব, রাজনৈতিক প্রভাব এবং দুর্বল প্রয়োগব্যবস্থা সংস্কারের গতি ব্যাহত করেছে। এসব সমস্যা কাঠামোগত এবং দীর্ঘমেয়াদি। এই বাস্তবতা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সংস্কার কেবল নীতিনির্ধারণের বিষয় নয়। এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা এবং দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়।
-
ফাহমিদা খাতুন নির্বাহী পরিচালক, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
*মতামত লেখকের নিজস্ব
Sangbad365 Admin 










