০৫:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মহানবী (সা.)–এর চিঠিপত্রে যা আছে

  • Sangbad365 Admin
  • সময়ঃ ১২:০৬:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৬০০৩ Time View

রাসুলের পত্রাবলিতে পত্ররচনার সর্বোচ্চ সাহিত্যিক গুণাবলি বিদ্যমান। কোরআনের পর তাঁর রচনা সর্বোচ্চ ভাষা–অলঙ্কার সমৃদ্ধ। তবে তা দীর্ঘসূত্রিতা, কৃত্রিম ছন্দ বা অলঙ্কারের ভারে নুয়ে পড়েনি। বরং সহজ, সংক্ষিপ্ত ও গভীর অর্থবহ ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে। প্রতিটি বাক্যে নবুয়তের সত্যতা, দৃঢ় বিশ্বাস ও দৃঢ় সংকল্পের ছাপ সুস্পষ্ট।

পত্রগুলোর ভাষা কঠোর নয়; কোমল, হৃদয়গ্রাহী। এই কারণেই অধিকাংশ শাসক ও গোত্র এসব পত্র দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল। লেখনশৈলী এতটাই স্পষ্ট যে, তা পত্ররচনার একটি মানদণ্ড হয়ে দাঁড়ায়।

প্রতিটি পত্রের শুরুতে প্রেরক হিসেবে তাঁর নাম ও ‘আল্লাহর রাসুল’ উপাধি উল্লেখ করা হয়েছে। কোথাও কোথাও ‘আল্লাহর বান্দা’ শব্দ যুক্ত করে খ্রিষ্টানদের ইসা (আ.)–এর প্রভুত্বের ভ্রান্ত ধারণার সূক্ষ্ম প্রতিবাদ করা হয়েছে। প্রাপকের নাম ও উপযুক্ত উপাধিও উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন: ‘হিরাক্লিয়াস, রোমের মহাসম্রাট’, ‘কিসরা আব্রুয়েজ, পারস্যের বাদশাহ’, ‘নাজ্জাশি, হাবশার রাজা’।

শান্তির সম্ভাষণ প্রাপকের অবস্থান অনুযায়ী ভিন্ন হয়েছে। মুসলিমের জন্য ‘তোমার প্রতি শান্তি’ বা ‘যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ঈমান এনেছে, তার প্রতি শান্তি’; আর অমুসলিমের জন্য ‘যে হেদায়াত অনুসরণ করে, তার প্রতি শান্তি’।

এরপর আল্লাহর প্রশংসা, আল্লাহর একত্ব ও তাঁকে রাসুল হিসেবে মেনে নেওয়া এবং উপদেশ ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দূতদের আনুগত্যকে নিজের আনুগত্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

অপরাধীদের ক্ষমার ঘোষণা রয়েছে। ইসলাম গ্রহণ না করলে জিজিয়া আরোপের বিধান উল্লেখ আছে। পত্রের শেষে নবুয়তের মোহর সংযুক্ত ছিল, যার ওপর ‘আল্লাহ’, মাঝে ‘রাসুল’ এবং নিচে ‘মুহাম্মদ’ খোদাই করা ছিল।

এই রচনাশৈলী অধিকাংশ পত্রে অভিন্ন হলেও কিছু পত্রে সূচনার ধরন ভিন্ন। যেমন, মালিক ইবনে নমত ও রিফাআহ ইবনে জায়েদের কাছে পত্রের শিরোনাম ছিল ‘হাযা কিতাব’, আর মুনজির ইবনে সাওয়ার পত্রের সূচনা ছিল ‘সালামুন আনতা’।

ট্যাগঃ

মহানবী (সা.)–এর চিঠিপত্রে যা আছে

সময়ঃ ১২:০৬:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাসুলের পত্রাবলিতে পত্ররচনার সর্বোচ্চ সাহিত্যিক গুণাবলি বিদ্যমান। কোরআনের পর তাঁর রচনা সর্বোচ্চ ভাষা–অলঙ্কার সমৃদ্ধ। তবে তা দীর্ঘসূত্রিতা, কৃত্রিম ছন্দ বা অলঙ্কারের ভারে নুয়ে পড়েনি। বরং সহজ, সংক্ষিপ্ত ও গভীর অর্থবহ ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে। প্রতিটি বাক্যে নবুয়তের সত্যতা, দৃঢ় বিশ্বাস ও দৃঢ় সংকল্পের ছাপ সুস্পষ্ট।

পত্রগুলোর ভাষা কঠোর নয়; কোমল, হৃদয়গ্রাহী। এই কারণেই অধিকাংশ শাসক ও গোত্র এসব পত্র দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল। লেখনশৈলী এতটাই স্পষ্ট যে, তা পত্ররচনার একটি মানদণ্ড হয়ে দাঁড়ায়।

প্রতিটি পত্রের শুরুতে প্রেরক হিসেবে তাঁর নাম ও ‘আল্লাহর রাসুল’ উপাধি উল্লেখ করা হয়েছে। কোথাও কোথাও ‘আল্লাহর বান্দা’ শব্দ যুক্ত করে খ্রিষ্টানদের ইসা (আ.)–এর প্রভুত্বের ভ্রান্ত ধারণার সূক্ষ্ম প্রতিবাদ করা হয়েছে। প্রাপকের নাম ও উপযুক্ত উপাধিও উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন: ‘হিরাক্লিয়াস, রোমের মহাসম্রাট’, ‘কিসরা আব্রুয়েজ, পারস্যের বাদশাহ’, ‘নাজ্জাশি, হাবশার রাজা’।

শান্তির সম্ভাষণ প্রাপকের অবস্থান অনুযায়ী ভিন্ন হয়েছে। মুসলিমের জন্য ‘তোমার প্রতি শান্তি’ বা ‘যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ঈমান এনেছে, তার প্রতি শান্তি’; আর অমুসলিমের জন্য ‘যে হেদায়াত অনুসরণ করে, তার প্রতি শান্তি’।

এরপর আল্লাহর প্রশংসা, আল্লাহর একত্ব ও তাঁকে রাসুল হিসেবে মেনে নেওয়া এবং উপদেশ ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দূতদের আনুগত্যকে নিজের আনুগত্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

অপরাধীদের ক্ষমার ঘোষণা রয়েছে। ইসলাম গ্রহণ না করলে জিজিয়া আরোপের বিধান উল্লেখ আছে। পত্রের শেষে নবুয়তের মোহর সংযুক্ত ছিল, যার ওপর ‘আল্লাহ’, মাঝে ‘রাসুল’ এবং নিচে ‘মুহাম্মদ’ খোদাই করা ছিল।

এই রচনাশৈলী অধিকাংশ পত্রে অভিন্ন হলেও কিছু পত্রে সূচনার ধরন ভিন্ন। যেমন, মালিক ইবনে নমত ও রিফাআহ ইবনে জায়েদের কাছে পত্রের শিরোনাম ছিল ‘হাযা কিতাব’, আর মুনজির ইবনে সাওয়ার পত্রের সূচনা ছিল ‘সালামুন আনতা’।