০৩:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাকিব-ম‌্যাথুজের ‘টাইমড আউট’ সিদ্ধান্ত দেওয়া আম্পায়ার অবসরে

  • Sangbad365 Admin
  • সময়ঃ ১২:০৫:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
  • ১৬০০৪ Time View

প্রকাশিত: ১৭:৪২, ২১ মার্চ ২০২৬  

আম্পায়ারদের মধ্যে কিছু নাম ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে চিরকাল ভাস্বর হয়ে থাকে। স্টিভ বাকনারের সেই বিখ্যাত ‘দেখেও না দেখা’ আউট দেওয়া, বিলি বাউডেনের আঙুল বাঁকিয়ে অভিনব ভঙ্গিতে সিদ্ধান্ত জানানোর ধরন, কিংবা চার-ছক্কায় তার বাড়তি আনন্দ-সবই যেন চোখে লেগে আছে। ডেভিড শেফার্ডের খানিকটা ঝুঁকে দাঁড়িয়ে আম্পায়ারিং করা কিংবা সাইমন টাফেল ও আলীম দারের নিখুঁত সিদ্ধান্ত-সব মিলিয়ে এই নামগুলো ক্রিকেট ইতিহাসে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে।

এই তালিকায় অনায়াসেই জায়গা করে নেন মারাইস ইরাসমাস। দক্ষিণ আফ্রিকার এই অভিজ্ঞ আম্পায়ারই ক্রিকেট ইতিহাসের একমাত্র ‘টাইমড আউট’-এর সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন। ২০২৩ সালে দিল্লিতে বাংলাদেশের আবেদনের প্রেক্ষিতে শ্রীলঙ্কার অ‌্যাঞ্জেলো ম‌্যাথুউজকে টাইমড আউট ঘোষণা করেন তিনি। যে সিদ্ধান্তে পুরো ক্রিকেট বিশ্বে তুমুল আলোচনা তৈরি হয়। সেই মুহূর্তেই ইতিহাসের পাতায় স্থায়ীভাবে জায়গা করে নেন ইরাসমাস।

এবার সেই ইরাসমাস আন্তর্জাতিক আম্পায়ারিংকে বিদায় জানালেন। ২০২৪ সালের মার্চে নিউ জিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার একটি টেস্ট ম্যাচে শেষবারের মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এরপর কিছুদিন ফ্র্যাঞ্চাইজি ও ঘরোয়া লিগে কাজ চালিয়ে গেলেও, এখন আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরে যাচ্ছেন।

আজ ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার প্রোভিনশিয়াল ওয়ানডে চ্যালেঞ্জে বোলান্ড ও লায়ান্সের ম্যাচ দিয়েই লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে শেষবারের মতো মাঠে নামবেন তিনি। এর মাধ্যমেই টানা দুই দশকের বেশি সময়ের আম্পায়ারিং ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন ইরাসমাস।

২০০০ সালে ক্লাব ক্রিকেট দিয়ে যাত্রা শুরু করা ইরাসমাস আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ৮২টি টেস্ট, ১২৫টি ওয়ানডে এবং ৬১টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে আম্পায়ারিং করেছেন। ক্যারিয়ারে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। যার মধ্যে রয়েছে ১৬টি অ্যাশেজ টেস্ট, ভারত-পাকিস্তানের ৭টি হাইভোল্টেজ ম্যাচ এবং ২০১৯ বিশ্বকাপের ফাইনাল। 

৬২ বছর বয়সী ইরাসমাস অবসর পরবর্তী জীবন নিয়ে ইতোমধ্যেই পরিকল্পনা সাজিয়ে ফেলেছেন। তিনি বই লেখার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি স্ত্রীকে নিয়ে ভ্রমণেও বের হবেন। মে মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রুগার জাতীয় পার্ক এবং জুনে ইতালি সফরের পরিকল্পনা রয়েছে তার। নতুন বছর থেকে দর্শক হিসেবে কিছু টেস্ট ম্যাচ উপভোগ করারও ইচ্ছা রয়েছে।

নিজের ক্যারিয়ারে অসাধারণ ধারাবাহিকতার স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৬, ২০১৭ ও ২০২১ সালে তিনবার আইসিসির বর্ষসেরা আম্পায়ারের পুরস্কার জিতেছেন ইরাসমাস। তার বিদায়ে আইসিসির এলিট প্যানেলে আম্পায়ারের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১১-তে। বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন অ‌্যাডরিয়ান হোল্টস্টক। 

ঢাকা/ইয়াসিন

ট্যাগঃ

সাকিব-ম‌্যাথুজের ‘টাইমড আউট’ সিদ্ধান্ত দেওয়া আম্পায়ার অবসরে

সময়ঃ ১২:০৫:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬

প্রকাশিত: ১৭:৪২, ২১ মার্চ ২০২৬  

আম্পায়ারদের মধ্যে কিছু নাম ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে চিরকাল ভাস্বর হয়ে থাকে। স্টিভ বাকনারের সেই বিখ্যাত ‘দেখেও না দেখা’ আউট দেওয়া, বিলি বাউডেনের আঙুল বাঁকিয়ে অভিনব ভঙ্গিতে সিদ্ধান্ত জানানোর ধরন, কিংবা চার-ছক্কায় তার বাড়তি আনন্দ-সবই যেন চোখে লেগে আছে। ডেভিড শেফার্ডের খানিকটা ঝুঁকে দাঁড়িয়ে আম্পায়ারিং করা কিংবা সাইমন টাফেল ও আলীম দারের নিখুঁত সিদ্ধান্ত-সব মিলিয়ে এই নামগুলো ক্রিকেট ইতিহাসে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে।

এই তালিকায় অনায়াসেই জায়গা করে নেন মারাইস ইরাসমাস। দক্ষিণ আফ্রিকার এই অভিজ্ঞ আম্পায়ারই ক্রিকেট ইতিহাসের একমাত্র ‘টাইমড আউট’-এর সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন। ২০২৩ সালে দিল্লিতে বাংলাদেশের আবেদনের প্রেক্ষিতে শ্রীলঙ্কার অ‌্যাঞ্জেলো ম‌্যাথুউজকে টাইমড আউট ঘোষণা করেন তিনি। যে সিদ্ধান্তে পুরো ক্রিকেট বিশ্বে তুমুল আলোচনা তৈরি হয়। সেই মুহূর্তেই ইতিহাসের পাতায় স্থায়ীভাবে জায়গা করে নেন ইরাসমাস।

এবার সেই ইরাসমাস আন্তর্জাতিক আম্পায়ারিংকে বিদায় জানালেন। ২০২৪ সালের মার্চে নিউ জিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার একটি টেস্ট ম্যাচে শেষবারের মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এরপর কিছুদিন ফ্র্যাঞ্চাইজি ও ঘরোয়া লিগে কাজ চালিয়ে গেলেও, এখন আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরে যাচ্ছেন।

আজ ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার প্রোভিনশিয়াল ওয়ানডে চ্যালেঞ্জে বোলান্ড ও লায়ান্সের ম্যাচ দিয়েই লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে শেষবারের মতো মাঠে নামবেন তিনি। এর মাধ্যমেই টানা দুই দশকের বেশি সময়ের আম্পায়ারিং ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন ইরাসমাস।

২০০০ সালে ক্লাব ক্রিকেট দিয়ে যাত্রা শুরু করা ইরাসমাস আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ৮২টি টেস্ট, ১২৫টি ওয়ানডে এবং ৬১টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে আম্পায়ারিং করেছেন। ক্যারিয়ারে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। যার মধ্যে রয়েছে ১৬টি অ্যাশেজ টেস্ট, ভারত-পাকিস্তানের ৭টি হাইভোল্টেজ ম্যাচ এবং ২০১৯ বিশ্বকাপের ফাইনাল। 

৬২ বছর বয়সী ইরাসমাস অবসর পরবর্তী জীবন নিয়ে ইতোমধ্যেই পরিকল্পনা সাজিয়ে ফেলেছেন। তিনি বই লেখার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি স্ত্রীকে নিয়ে ভ্রমণেও বের হবেন। মে মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রুগার জাতীয় পার্ক এবং জুনে ইতালি সফরের পরিকল্পনা রয়েছে তার। নতুন বছর থেকে দর্শক হিসেবে কিছু টেস্ট ম্যাচ উপভোগ করারও ইচ্ছা রয়েছে।

নিজের ক্যারিয়ারে অসাধারণ ধারাবাহিকতার স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৬, ২০১৭ ও ২০২১ সালে তিনবার আইসিসির বর্ষসেরা আম্পায়ারের পুরস্কার জিতেছেন ইরাসমাস। তার বিদায়ে আইসিসির এলিট প্যানেলে আম্পায়ারের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১১-তে। বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন অ‌্যাডরিয়ান হোল্টস্টক। 

ঢাকা/ইয়াসিন