০৬:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মনোযোগহীন প্রজন্ম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ

  • Sangbad365 Admin
  • সময়ঃ ১২:০৫:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
  • ১৬০১৬ Time View

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা আজ এক অদ্ভুত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে প্রযুক্তির অভূতপূর্ব অগ্রগতি, তথ্যপ্রযুক্তির সহজলভ্যতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার—অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর মনোযোগহীনতা, অধ্যয়নবিমুখতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি এবং চিন্তাশক্তির ক্রমাবনতি। ক্যাম্পাসগুলোয় এখন বইয়ের গন্ধের চেয়ে বেশি দেখা যায় স্মার্টফোনের আলো; পাঠাগারের নীরবতার চেয়ে বেশি শোনা যায় রিলস, শর্ট ভিডিও এবং ট্রেন্ডিং গানের শব্দ। যেন জ্ঞানচর্চার জায়গা ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে এক অনবরত বিনোদনকেন্দ্রে।

একসময় বিশ্ববিদ্যালয় মানে ছিল মুক্তবুদ্ধির চর্চা, রাতভর লাইব্রেরিতে বসে গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর তর্ক, বইয়ের নোটে ভরা টেবিল এবং সমাজকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন। এখন অনেক ক্ষেত্রেই সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে ‘স্ট্যাটাস আপলোড’, ‘রিঅ্যাকশন দেওয়া’, ‘ফ্ল্যাশ মব’, ‘সেলফি কালচার’, ‘ট্রিট’, ‘পার্টি’ এবং ভার্চ্যুয়াল জনপ্রিয়তার প্রতিযোগিতা। একজন শিক্ষার্থী কতটি বই পড়েছে, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সে কতটি ছবি আপলোড করেছে, তার নিজের ইউটিউব চ্যানেল আছে কি না, তার ফলোয়ার কতজন কিংবা তার পোস্টে কতটি লাইক এসেছে। এই বাস্তবতা শুধু সামাজিক পরিবর্তনের চিহ্ন নয়; এটি বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যতের জন্য এক গভীর সতর্কসংকেত।

ট্যাগঃ

মনোযোগহীন প্রজন্ম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ

সময়ঃ ১২:০৫:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা আজ এক অদ্ভুত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে প্রযুক্তির অভূতপূর্ব অগ্রগতি, তথ্যপ্রযুক্তির সহজলভ্যতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার—অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর মনোযোগহীনতা, অধ্যয়নবিমুখতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি এবং চিন্তাশক্তির ক্রমাবনতি। ক্যাম্পাসগুলোয় এখন বইয়ের গন্ধের চেয়ে বেশি দেখা যায় স্মার্টফোনের আলো; পাঠাগারের নীরবতার চেয়ে বেশি শোনা যায় রিলস, শর্ট ভিডিও এবং ট্রেন্ডিং গানের শব্দ। যেন জ্ঞানচর্চার জায়গা ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে এক অনবরত বিনোদনকেন্দ্রে।

একসময় বিশ্ববিদ্যালয় মানে ছিল মুক্তবুদ্ধির চর্চা, রাতভর লাইব্রেরিতে বসে গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর তর্ক, বইয়ের নোটে ভরা টেবিল এবং সমাজকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন। এখন অনেক ক্ষেত্রেই সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে ‘স্ট্যাটাস আপলোড’, ‘রিঅ্যাকশন দেওয়া’, ‘ফ্ল্যাশ মব’, ‘সেলফি কালচার’, ‘ট্রিট’, ‘পার্টি’ এবং ভার্চ্যুয়াল জনপ্রিয়তার প্রতিযোগিতা। একজন শিক্ষার্থী কতটি বই পড়েছে, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সে কতটি ছবি আপলোড করেছে, তার নিজের ইউটিউব চ্যানেল আছে কি না, তার ফলোয়ার কতজন কিংবা তার পোস্টে কতটি লাইক এসেছে। এই বাস্তবতা শুধু সামাজিক পরিবর্তনের চিহ্ন নয়; এটি বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যতের জন্য এক গভীর সতর্কসংকেত।